দিনহাটা, ২৫ আগস্টঃ চিনির দাম নিয়ে বাজারে যখন মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস, তখন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামে লাগাম পরাতে জেলায় অভিযান শুরু করল প্রশাসন। কোচবিহারের অন্যান্য এলাকার পাশাপাশি দিনহাটাতেও মঙ্গলবার একাধিক পাইকারি মজুতদারের গোডাউনে হানা দিল প্রশাসন ও পুলিশ। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন দিনহাটার মহকুমাশাসক এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বাজারে চিনির দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ার পিছনে মজুতদারি বা কালোবাজারির কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এ দিনের অভিযান। কোথায় কত পরিমাণ চিনি মজুত রয়েছে, কী দামে কেনা হয়েছে এবং কী দামে বিক্রি করা হচ্ছে সবই খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।
অভিযানের সময় এক চিনি আড়তদারের দাবি, প্রশাসনের তরফে পাইকারি বিক্রির জন্য কেজি প্রতি ৫৪ টাকা দাম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘অভিযানের আগে আমরা ৬০ টাকারও বেশি দামে চিনি বিক্রি করতাম। এখন ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হলে মুনাফা অনেকটাই কমে যাবে।’’
তবে বাজারে চিনির ঘাটতি হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই বলেও দাবি করেছেন ওই ব্যবসায়ী। তাঁর কথায়, বর্তমানে তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহে ঘাটতির সম্ভাবনা নেই।
শুধু চিনিই নয়, চাল, ডাল, তেল-সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও যাতে অস্বাভাবিক ভাবে না বাড়ে, সে বিষয়ে নজর রাখছে প্রশাসন। কালোবাজারি কিংবা কৃত্রিম ভাবে পণ্যের সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম রাখতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। জেলার বিভিন্ন বাজার এবং পাইকারি মজুতকেন্দ্রে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। ফলে চিনির দামের ‘দৌড়’ কতটা থামে, এখন সেদিকেই নজর দিনহাটার বাজারে।





