বারুইপুর, ২৫ আগস্টঃ রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসও কাটেনি। তার মধ্যেই দলের অন্দরের কোন্দল ঘিরে খুনের অভিযোগ। বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ায় আদি বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিককে খুনের ঘটনায় বিজেপিরই চার সদস্যকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুজন মণ্ডল, যাঁকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিজেপির দাবি, সুজনকে আগেই দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বাকি তিন জন হলেন কৃষ্ণ মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া। চার জনই উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ার বাসিন্দা। সোমবার রাতভর এলাকায় তল্লাশি চালানোর পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতদের বারুইপুর আদালতে পেশ করার কথা।
রবিবার রাতে এলাকায় ফোন করে বাপি প্রামাণিককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, মাঝরাস্তায় তাঁকে মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়েও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল এলাকা।
বাপির পরিবারের অভিযোগ, বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডল পরিকল্পনা করে তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সুজন-সহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। সোমবার তাঁদের আটক করে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জেরায় বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর চার জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল ভূমিকা থাকতে পারে সুজনের।
নিহত বাপি এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। পরিবারের দাবি, গত দশ বছর ধরে রাজনৈতিক হিংসার কারণে তাঁকে একাধিক বার ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাড়ি ফিরে এলাকায় একটি দোকানও খুলেছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি দাবি করেছেন, সুজন এখন দলের কেউ নন, তাঁকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দলের অন্দরের গোষ্ঠীসংঘাত কি এ বার রক্তক্ষয়ের চেহারা নিচ্ছে? বারুইপুরের খুনের তদন্তে সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।





