কলকাতা, ২৫ আগস্টঃ রাজ্যে বিজেপি সরকারের বয়স এখনও একশো দিনও খুব বেশি পেরোয়নি। তার মধ্যেই দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগ উঠছে। কোথাও আবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে খুনোখুনির ঘটনাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বার বার দলকে সতর্ক করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এ বার মুখে নয়, লিখিত বার্তায় আরও কড়া অবস্থান নিলেন তিনি। তাঁর সেই সতর্কবার্তা ইতিমধ্যেই বিজেপির বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা, অঞ্চল, মণ্ডল থেকে বুথ স্তর দলের সর্বস্তরের নেতা, জনপ্রতিনিধি ও কর্মীদের উদ্দেশে লেখা ওই বার্তার শুরুতেই শমীক বলেছেন, সততা, স্বচ্ছতা এবং আদর্শই বিজেপির মূল চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং দেশসেবার সংকল্পকে দলের কাজের ভিত্তি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
বার্তায় শমীকের স্পষ্ট ঘোষণা, ‘‘দলের নীতির বাইরে গিয়ে কোনও ব্যক্তি যদি কোনও অনৈতিক বা দুর্নীতির কাজের সঙ্গে যুক্ত হন, দল তার দায়ভার কখনওই নেবে না।’’
এর পরেই তিন দফা নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। প্রথমত, দুর্নীতি বা অপকর্মের সামান্যতম প্রমাণ মিললেও পদ বা অবস্থান নির্বিশেষে কঠোর সাংগঠনিক এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘদিনের কর্মীদের ত্যাগ যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রেখে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে জনসেবা করাকেই প্রত্যেক কার্যকর্তার প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করিয়েছেন।
শেষে শমীকের আবেদন, ‘‘আসুন, আমরা সবাই মিলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দলের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখি।’’
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকার গঠনের পর বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় অস্বস্তিতে দলীয় নেতৃত্ব। সেই পরিস্থিতিতে শুধু মৌখিক সতর্কতা নয়, এ বার লিখিত বার্তা জেলায় জেলায় পৌঁছে দিয়ে সংগঠনের সর্বস্তরে কড়া বার্তা দিতে চাইলেন শমীক। তাঁর বার্তার মূল সুর একটাই পদ যত বড়ই হোক, দুর্নীতির অভিযোগে কাউকে রেয়াত নয়।




