ফলতা, ১৯ মেঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলাজুড়ে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল বিজেপি। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাদের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন এবং অন্তত ৩২১ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। এবার সেই নিহত কর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ফলতার নির্বাচনী সভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।
ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁরা রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব সরকার নেবে। নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।” তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
শুধু নিহতদের পরিবার নয়, ফলতা এলাকায় যেসব বিজেপি কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদেরও পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চ থেকেই ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা-কে তিনি নির্দেশ দেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর আক্রান্ত কর্মীদের তালিকা সরাসরি তাঁর কাছে জমা দিতে। শুভেন্দুর কথায়, “তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেককে সহযোগিতা করা হবে। সরকার সবসময় তাঁদের পাশে থাকবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার বাংলায় প্রচারে এসেছিলেন। ২০০ আসনের লক্ষ্যও ঘোষণা করেছিল গেরুয়া শিবির। যদিও শেষ পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল কংগ্রেস।
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিজেপির অভিযোগ ছিল, জেলায় জেলায় তাদের কর্মীদের উপর হামলা, বাড়ি ভাঙচুর এবং খুনের ঘটনা ঘটেছে। সেই সময় থেকেই নিহত কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে আসছিল বিজেপি নেতৃত্ব। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক হিংসার শিকার পরিবারগুলির দায়িত্ব সরকার নেবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফলতার সভা থেকে শুভেন্দুর এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা, অন্যদিকে ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গকে সামনে রেখে বিরোধীদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কৌশলও স্পষ্ট এই ঘোষণায়।
ফলতা পুনর্নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই যায়।





