কলকাতা, ১৯ মেঃ বিতর্ক যেন তাঁর নিত্যসঙ্গী। কখনও বিরোধীদের উদ্দেশে ‘দাবাং’ মন্তব্য, কখনও আবার “গরুর দুধে সোনা” তত্ত্ব রাজ্যের রাজনীতিতে দিলীপ ঘোষ মুখ খুললেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এবার গোমাতার উপকারিতা নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা। রাজ্যের পঞ্চায়েত, প্রাণীসম্পদ ও কৃষি বিপণন দপ্তরের এই মন্ত্রী দাবি করেছেন, গরুর পিঠে হাত বোলালে রক্তচাপ কমতে পারে।
মঙ্গলবার কলকাতার কাঁকুড়গাছি এলাকায় একটি চা-চক্রে যোগ দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “গরুকে আদর করলে ব্লাড প্রেসার কমে যেতে পারে। গরুর গলকম্বল বা পিঠের কুঁজে হাত বোলালে রক্তচাপ দ্রুত নেমে আসে।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই দাবির পিছনে কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে কি না। যদিও বিজেপি শিবিরের একাংশের দাবি, গরুর সঙ্গে মানুষের আবেগ ও মানসিক সংযোগের বিষয়টিকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন মন্ত্রী। অন্যদিকে বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাঁদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকেও বারবার এ ধরনের মন্তব্য করে বিতর্ক উসকে দিচ্ছেন দিলীপ।
প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়। এর আগেও গোমাতা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করে শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। ২০১৯ সালে বিজেপির রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন দিলীপ ঘোষ দাবি করেছিলেন, “দেশি গরুর দুধে সোনা থাকে।” সেই মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আবার করোনা পরিস্থিতির সময় তিনি গোমূত্রের উপকারিতা নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের এক মন্ত্রী সঞ্জয় সিং গাঙ্গওয়ার-ও এর আগে একই ধরনের দাবি করেছিলেন। ২০২৪ সালে কানহা গৌশালার উদ্বোধনে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “প্রতিদিন গরুর পিঠে হাত বোলালে রক্তচাপ কমে যায় এবং ওষুধের মাত্রাও কমানো সম্ভব।” এবার সেই একই সুর শোনা গেল দিলীপ ঘোষের গলায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই গরুকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগের বার্তা তুলে ধরতে চায়। দিলীপ ঘোষের মন্তব্যও সেই রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে তাঁর এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই মিম, সমালোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে কৌতুকের চোখে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন মন্ত্রীদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। সবমিলিয়ে, গোমাতাকে ঘিরে দিলীপ ঘোষের নতুন মন্তব্য আবারও বঙ্গ রাজনীতিতে বিতর্কের পারদ চড়িয়ে দিল।





