কলকাতা, ১৯ মেঃ পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পরেও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা ঘোষণা নিয়ে আপাতত কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না বিজেপি নেতৃত্ব। বরং ধাপে ধাপে এবং রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের পথে হাঁটতে চাইছে দল। বিজেপির কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, আপাতত সীমিত মন্ত্রিসভা নিয়েই প্রশাসনিক কাজ চালানোর পক্ষে সওয়াল করছে দলের একাংশ। ফলে বাংলার নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা দেখতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-র সঙ্গে দিল্লিতে একদফা বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেখানে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম এবং দপ্তর বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গেও দিল্লিতে বৈঠক হতে পারে। সেই বৈঠকের পরই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্রের দাবি।
বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, “মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে এখনই কোনও তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। বিহারেও সরকার গঠনের কয়েক মাস পরে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী এবং কয়েকজন মন্ত্রী প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।” ফলে আপাতত সীমিত সংখ্যক মন্ত্রী নিয়েই সরকার পরিচালনায় বিশেষ অসুবিধা হচ্ছে না বলেই মনে করছে নেতৃত্ব।
এই আবহেই জল্পনা তৈরি হয়েছে আসন্ন বাজেট অধিবেশন ঘিরে। আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অর্থ দপ্তরের পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও মন্ত্রী নিয়োগ হয়নি। সেই কারণেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এবারের বাজেট পেশ করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে এই বিলম্বের নেপথ্যে রয়েছে সংগঠন এবং প্রশাসনের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল। নির্বাচনের পরে দলে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেই হিসেব কষেই এগোতে চাইছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক বার্তা দুই দিকই মাথায় রাখা হচ্ছে।
তবে বিরোধীদের দাবি, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনে দেরি হওয়া সরকারের অন্দরেই মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছে, “দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই সরকার চলছে। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তেই নেওয়া হবে।”
সবমিলিয়ে, বাংলার নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা নিয়ে জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে। এখন নজর দিল্লির বৈঠক এবং আসন্ন বাজেট অধিবেশনের দিকেই।





