ফরাক্কা, ১৯ মেঃ বঙ্গ রাজনীতিতে ফের নতুন চাঞ্চল্য। ফরাক্কার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করলেন। রবিবার নিউ ফরাক্কায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি শুধু দল ছাড়ার কথাই জানাননি, একইসঙ্গে রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র ভূয়সী প্রশংসাও করেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি এবার বিজেপির দিকেই পা বাড়াচ্ছেন মনিরুল?
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ফরাক্কা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন মনিরুল ইসলাম। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করে সামশেরগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক আমিরুল ইসলামকে ফরাক্কা কেন্দ্রে প্রার্থী করে তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও সেই সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত লাভ হয়নি দলের। ফরাক্কা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী মোতাব শেখ জয়ী হন এবং তৃণমূল তৃতীয় স্থানে নেমে যায়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই দলত্যাগের ঘোষণা করে মনিরুল বলেন, “আমি তৃণমূল দল ছাড়িনি, তৃণমূলই আমাকে ছেড়ে গিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে দলের রাজ্য নেতৃত্ব আর তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেনি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলে তাঁর সম্মান ও মর্যাদা নষ্ট হয়েছে।
মনিরুল ইসলাম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে বলেন, “দুর্নীতি, কাটমানি ও দাদাগিরির বিরুদ্ধে তিনি যে ব্যবস্থা নিচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। এমন মুখ্যমন্ত্রী আগে থাকলে পশ্চিমবঙ্গ অনেক আগেই দুর্নীতিমুক্ত হতো।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। মনিরুলের দাবি, “দলে একনায়কতন্ত্র চলছে। একজনই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট না দেওয়া এবং ১৫ জনের আসন পরিবর্তন করা হয়েছে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে।” যদিও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রতি এখনও শ্রদ্ধাশীল বলেই জানিয়েছেন।
তবে সবচেয়ে কড়া আক্রমণ তিনি শানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ঘিরে। তাঁর অভিযোগ, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমার পক্ষে তৃণমূল করা সম্ভব নয়। তাঁর নেতৃত্বে সিন্ডিকেটরাজ ও লুটতরাজ বেড়েছে। মানুষ সম্মান পায়নি।”
যদিও ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট করেননি মনিরুল। তিনি জানিয়েছেন, অনুগামী ও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই খুব শীঘ্রই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘোষণা করবেন।





