উত্তর ২৪ পরগনা, ১৯ মেঃ ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অভিযোগে চাপে তৃণমূল কংগ্রেস। কোথাও তোলাবাজি, কোথাও হুমকি বা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন দলীয় নেতা-কাউন্সিলররা। এবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-য় খোদ এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে উঠল মধুচক্র চালানোর অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
অভিযুক্তের নাম সুকুমার রায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বনগাঁ থানার কালোপুর এলাকায় তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সেই বাড়িতে বেআইনিভাবে মধুচক্র চালানো হত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিনের পর দিন বাড়িতে মহিলাদের যাতায়াত চললেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।
স্থানীয় এক মহিলার অভিযোগ, “দিন হোক বা রাত, নিয়মিত মহিলাদের ওই বাড়িতে আসতে দেখা যেত। অনেক সময় সুকুমার রায়কেও তাঁদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারিনি।” তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদলের পর এলাকাবাসীর একাংশ আরও সরব হয়ে ওঠেন বলে দাবি।
মঙ্গলবারও কয়েকজন মহিলাকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেখে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় স্থানীয়দের। এরপরই ক্ষুব্ধ জনতা বাড়িতে ঢুকে সুকুমার রায়কে হাতেনাতে ধরে ফেলে বলে অভিযোগ। শুরু হয় বিক্ষোভ ও গণধোলাই। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একাধিক মদের বোতল এবং কিছু আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন মহিলাকেও আটক করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুকুমার রায়। তাঁর দাবি, “কিছু মহিলা বাড়ি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে এসেছিলেন। এর সঙ্গে মধুচক্র চালানোর কোনও সম্পর্ক নেই।” রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেআইনি কাজ চলছিল। তবে পালাবদলের পর প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





