কলকাতা, ১৮ মে : রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আরও একধাপ এগোল বিজেপি সরকার। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, কাটমানি এবং সরকারি তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু-র নেতৃত্বে এই কমিশন কাজ করবে। কমিশনের সদস্য হিসেবে থাকছেন শীর্ষ আইপিএস আধিকারিক জয়রামনও। আগামী ১ জুন থেকেই এই তদন্ত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব কমিশনকে সবরকম সহযোগিতা করবেন। তদন্তের জন্য যে সমস্ত নথি প্রয়োজন হবে, সেগুলি রাজ্য পুলিশের ডিজি সরবরাহ করবেন।” তিনি আরও জানান, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারায় এফআইআর দায়ের করা হবে। শুধু তদন্ত নয়, সরকারি অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং কীভাবে নয়ছয় হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে অর্থ উদ্ধারের পদক্ষেপ করা হবে।”
এদিন শুধু দুর্নীতির তদন্ত নয়, নারী নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছে সরকার। কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জি-র নেতৃত্বে ওই কমিটি তৈরি হয়েছে। তদন্তে যুক্ত থাকবেন আইপিএস আধিকারিক দময়ন্তী সেনও।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল কাটমানি, সিন্ডিকেট ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই পৃথক তদন্ত কমিশন গঠন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশন তদন্ত চলাকালীন সাধারণ মানুষের অভিযোগও গ্রহণ করতে পারে। শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা দিতে চাইছে নতুন সরকার।





