কলকাতা, ২৩ জুন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাসভাজন নেতা হিসেবেই দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়ে পদ পাওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কালীঘাটের তৃণমূল। সোমবার শোকজ করার পর মঙ্গলবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। শুধু তাই নয়, বিধানসভায় মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপের পদ থেকেও ফিরহাদকে সরানোর জন্য রাতারাতি স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসকে চিঠি পাঠালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বদলে এই পদে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে বসানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, সোমবার রাত পৌনে ১১টা নাগাদ স্পিকারকে ইমেল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ফিরহাদ আর দলের মুখ্য সচেতক নন। তাঁর পরিবর্তে মদন মিত্রকে ওই দায়িত্ব দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। মঙ্গলবার সকালে বিধানসভা অধিবেশন শুরুর আগে সাড়ে ১০টা নাগাদ কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্ব স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে সেই চিঠি জমা দেন। তবে বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্পিকার আপাতত এই আবেদনে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
দলীয় সূত্রের দাবি, সোমবার ‘আসল’ তৃণমূলের ব্যানারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের বিশেষ অধিবেশন, সাংবাদিক বৈঠক এবং নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণার পরই কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন মমতা। সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতি থেকে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ একাধিক নেতার নাম বাদ দেওয়া হয়। ঋতব্রত শিবিরে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া এবং সেখানে পদ পাওয়ার ঘটনাকেই ‘দলবিরোধী কাজ’ হিসেবে দেখছে কালীঘাট।
এই পরিস্থিতিতে ফিরহাদকে শুধু সংগঠন থেকে সরানো নয়, বিধানসভায় তাঁর সাংগঠনিক প্রভাবও খর্ব করতে চাইছে মমতা শিবির এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনের প্রথম দিনে কার্যত মুখ্য সচেতকের ভূমিকায় কে ছিলেন, তা স্পষ্ট হয়নি। ফলে তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত যে এখন আর শুধু দলীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিধানসভা ও সাংবিধানিক ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে, তা বলাই যায়।





