খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩১ জুলাইঃ দলের হয়ে টেলিভিশনের বিতর্ক থেকে সামাজিক মাধ্যমে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বহুবার। বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখপাত্র হিসেবেই পরিচিত শেহজাদ পুনাওয়ালা। কিন্তু হঠাৎই তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) প্রোফাইলে বদল ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক জল্পনা। প্রোফাইল থেকে ‘বিজেপি জাতীয় মুখপাত্র’ পরিচয় সরিয়ে দেওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানলেন তিনি?
প্রায় ১৮ বছর ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শেহজাদ। রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসে। পরে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় স্তরে দলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। টেলিভিশনের বিতর্কে দলের অবস্থান তুলে ধরা, সামাজিক মাধ্যমে বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক ইস্যুতে দলের বক্তব্য প্রকাশ—সব ক্ষেত্রেই তাঁকে নিয়মিত দেখা গিয়েছে। ২০২১ সালে তাঁকে দিল্লি বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি তাঁর এক্স বায়ো বদলে গেছে। সেখানে এখন লেখা রয়েছে, “ধর্ম ইসলাম, সংস্কৃতি হিন্দু, আদর্শ ভারতীয়। সারাজীবন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুগামী।” তবে সেই পরিচয়ে বিজেপির কোনও উল্লেখ নেই। এই পরিবর্তনের পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
কয়েক দিন আগে শেহজাদ নিজের পুরনো একটি ভিডিও পুনরায় শেয়ার করেছিলেন। সেই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন। সেই ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “ইতিমধ্যেই দু’বছর দেরি করে ফেলেছি।” এরপরই তাঁর প্রোফাইলের পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত বিজেপি ছাড়ার বিষয়ে শেহজাদ পুনাওয়ালা কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি। দলও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তাঁর এই পদক্ষেপ সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোরই ইঙ্গিত হতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৭ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দল ছেড়েছিলেন শেহজাদ। এরপর দীর্ঘদিন বিজেপির হয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব, বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ধারালো আক্রমণ শানিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি কোন রাজনৈতিক পথ বেছে নেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে এখনও ‘বিজেপি মুখপাত্র’ পরিচয় বহাল রয়েছে। ফলে জল্পনা যতই বাড়ুক, চূড়ান্ত উত্তর এখনও অধরাই।





