কলকাতা, ১৯ ডিসেম্বরঃ লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের রেশ এবার পৌঁছল লালবাজারে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজের মানহানির অভিযোগ তুলে কলকাতার লালবাজার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগের বিষয়ে তিনি সাইবার সেলে একটি মামলা করেছেন। এই অভিযোগের শিকার হয়েছেন কলকাতার ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল ফ্যান ক্লাব’-এর সভাপতি উত্তম সাহা।
বৃহস্পতিবার সৌরভ একটি ইমেলের মাধ্যমে লালবাজারে অভিযোগ জানান। অভিযোগে তিনি বলেন, উত্তম সাহা প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ এবং মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। সৌরভের দাবি, তিনি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়া প্রশাসক হিসেবে যে সুনাম অর্জন করেছেন, তা কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তাঁর মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। মেসি প্রায় ২০ মিনিট মাঠে ছিলেন। তবে অভিযোগ, মাঠে থাকাকালীন উদ্যোক্তা এবং পুলিশ-প্রশাসনের একটি জটলা তাঁকে সর্বদা ঘিরে রেখেছিল। এর ফলে গ্যালারিতে টিকিট কেটে ঢোকা হাজার হাজার দর্শক মেসিকে সঠিকভাবে দেখতে পারেননি। মেসি স্টেডিয়াম ছাড়ার পর দর্শকদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং যুবভারতী জুড়ে ভাঙচুর ও তাণ্ডব শুরু হয়।
সৌরভের অভিযোগ, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফ্যান ক্লাবের সভাপতি উত্তম সাহা অযথা তাঁর নাম জড়িয়ে কুরুচিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শতদ্রু দত্তের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে যে সমস্ত অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। সৌরভ অভিযোগ করেছেন, জেনে-সুনে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
পুলিশকে লেখা অভিযোগপত্রে সৌরভ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন, কবে, কোথায় এবং কী কী মন্তব্য তাঁর বিরুদ্ধে করা হয়েছে। প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক জানিয়েছেন, এই অপপ্রচারের ফলে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। লালবাজারের পুলিশ ইতোমধ্যেই অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে মেসি স্টেডিয়ামে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও জনতার ক্ষোভ কেবলমাত্র স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং ক্রীড়া মহলে সৌরভের নামও এলে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। সূত্রের খবর, পুলিশ অভিযোগ যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে।





