মুর্শিদাবাদ, ২০ জানুয়ারিঃ এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত নোটিস পাওয়ার পর চরম আতঙ্ক ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে একাকী এক বৃদ্ধের মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানার নওদাপাড়া এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম আকসত আলি মণ্ডল (৫২)। পরিবারের অভিযোগ, কমিশনের পাঠানো এসআইআর নোটিস থেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আকসত আলি মণ্ডলের পাঁচ ছেলে। তাঁদের মধ্যে চারজন কর্মসূত্রে কেরলে থাকেন এবং মেজো ছেলে সৌদি আরবে কর্মরত। তবে সম্প্রতি পরিবারের কাছে যে এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস আসে, তাতে ছয়ের বেশি সন্তান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই ভুল তথ্য নিয়েই শুরু হয় আতঙ্ক। নোটিসে ছেলেদের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৭ জানুয়ারি। কে কীভাবে আসবেন, ব্লক অফিসে কী কাগজ জমা দিতে হবে এই সমস্ত চিন্তায় ক্রমশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আকসত আলি।
মৃতের স্ত্রী সরিফা বিবি জানান, “দিন তিনেক আগে নোটিস আসার পর থেকেই স্বামী খুব চিন্তায় ছিলেন। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছিলেন না।” মঙ্গলবার সকালে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত সাদিখাঁরদিয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকেই তাঁর অসুস্থতা ও মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, সাদিখাঁরদিয়াড় পঞ্চায়েতের প্রধান মহবুল ইসলাম জানান, নোটিসে ছেলের সংখ্যা বেশি দেখানো হয়েছিল, যা আতঙ্কের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে যুব কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ইসুফ আলি এই ঘটনার জন্য এসআইআর প্রক্রিয়াকে দায়ী করে বলেন, “এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। ভয় আর দুশ্চিন্তায় একজন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারালেন। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত।”
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যেন অবিলম্বে এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস প্রক্রিয়া আরও মানবিকভাবে পরিচালনা করে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও সাধারণ মানুষ এমন ভয় ও মানসিক চাপে না পড়েন।





