খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৬ আগস্ট: গত ছয় দশকের অন্যতম ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম। লাগাতার অতিবৃষ্টিতে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলের তলায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন, নষ্ট হয়েছে চাষের জমি, ভেঙে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। এই দুর্যোগের মধ্যেই বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিলেন বলিউড অভিনেতা সলমন খান। তাঁর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর মাধ্যমে শুধু ত্রাণসামগ্রী পাঠানোই নয়, বাস্তুচ্যুতদের জন্য ৫০০টি অস্থায়ী বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অসমের বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯৫ জন। এখনও ১৪টি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। রাজ্যের সাত জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। বহু মানুষ এখনও ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতেই দুর্গতদের পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে এসেছে সলমনের সংস্থা।
বলিউড সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই প্রথম দফার ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে গিয়েছে দুর্গত এলাকায়। দ্বিতীয় দফার ত্রাণ বিতরণও শুরু হয়েছে। তবে সলমন শুধু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠিয়েই থেমে থাকেননি। অভিনেতা রণদীপ হুডার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনর্বাসনের পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত হয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, রণদীপ হুডা বর্তমানে ‘গ্লোবাল শিখস’ সংস্থার সঙ্গে মিলে অসমের বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ করছেন। তাঁর কাছ থেকেই দুর্গতদের প্রকৃত প্রয়োজনের কথা জানতে পারেন সলমন। পরে ‘বিয়িং হিউম্যান’ ও ‘গ্লোবাল শিখস’-এর যৌথ উদ্যোগে বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে ৫০০টি অস্থায়ী, বন্যা-সহনশীল বাড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিটি বাড়ি বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি হবে এবং একটি বাড়ি নির্মাণে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানা গিয়েছে।
এরই মধ্যে অসমের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলির একটি নেপালি খুঁটিতে প্রায় ২২০টি অস্থায়ী বাড়ি তৈরি করেছে ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর টিম। সংস্থার লক্ষ্য, তিন দফায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ সম্পূর্ণ করা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ‘বিয়িং হিউম্যান’-কে ঘিরে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে চণ্ডীগড় আদালতের সমনের মুখে পড়েছেন সলমন খান। বিতর্কের আবহ সত্ত্বেও অসমের বন্যাদুর্গতদের পাশে তাঁর এই উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এদিকে অসম সরকারও গৃহহীনদের দ্রুত পুনর্বাসনের রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করেছে।





