আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

বাবার কাছেই নিরাপত্তা, সেই সম্পর্কেই অপরাধের অভিযোগ, যাবজ্জীবন বহাল হাই কোর্টে

Published on: September 1, 2026
---Advertisement---

কালিম্পং, ১ সেপ্টেম্বরঃ যে সম্পর্কের কাছে সন্তানের নিরাপত্তা, স্নেহ এবং যত্ন পাওয়ার কথা, সেই সম্পর্কেরই অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। নাবালিকা মেয়েকে একাধিক বার যৌন নির্যাতনের মামলায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। গত ২৮ অগস্ট অভিযুক্তের আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রেখেছে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চ।

আদালত জানিয়েছে, সন্তানের কাছ থেকে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা যে ব্যক্তির, সেই সম্পর্ককে ভয় দেখানো বা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হলে অপরাধের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার সময় নাবালিকার বয়স ছিল প্রায় ১৫ বছর। পরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং ২০১৭ সালের নভেম্বরে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বলে আদালতে জানানো হয়।

ঘটনাটি ২০১৭ সালের। কালিম্পংয়ের গরুবাথান থানায় নাবালিকার এক নিকট আত্মীয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পর ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁকে অবশিষ্ট জীবনকাল পর্যন্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও চার বছরের কারাদণ্ডের কথাও বলা হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন অভিযুক্ত জীবন রাই। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, নাবালিকার বয়স যথাযথ ভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি।

তবে সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জন্মের শংসাপত্র, নাবালিকার বয়ান এবং চিকিৎসকের সাক্ষ্য বিবেচনা করে বয়স সংক্রান্ত তথ্যকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছে। চিকিৎসকের নথিতে নাবালিকাকে প্রায় ১৫ বছর বয়সি এবং প্রায় ২৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ডিএনএ পরীক্ষা না হওয়া প্রসঙ্গেও আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। শুধু ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি এই কারণে কোনও অভিযুক্তকে খালাস দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। মামলার অন্যান্য প্রমাণ এবং নির্যাতিতার সাক্ষ্য বিশ্বাসযোগ্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে, তা দোষ প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই মামলায় নাবালিকার সাক্ষ্যকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেছে আদালত। সেই ভিত্তিতেই নিম্ন আদালতের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখা হয়েছে।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment