কোচবিহার, ১ সেপ্টেম্বরঃ কাজের প্রস্তাবের সূত্র ধরে এক মহিলাকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ। সেই মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে সাজা ঘোষণা করল কোচবিহার জেলা আদালত। আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অভিযুক্ত রাখি রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সরলা ধরকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও মামলার নথিপত্রের ভিত্তিতে।
মামলার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারির। অভিযোগ, পুণ্ডিবাড়ির বাসিন্দা মহাদেব ধর নবদ্বীপের এক নৃত্যশিল্পীকে কাজের কথা বলে নিয়ে এসেছিলেন। এর পর তাঁকে একাধিক বার জোর করে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় মহাদেবের সঙ্গে রাখি রায় এবং সরলা ধরও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুণ্ডিবাড়ি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ভিত্তিতে রাখি রায় এবং সরলা ধরকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে মামলার মূল অভিযুক্ত মহাদেব ধরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি পুলিশের।
এর পর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন নথি ও তথ্য আদালতে পেশ করা হয়। মোট ১০ জন সাক্ষীর বক্তব্য শোনার পর আদালত অভিযুক্ত দুই মহিলার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে। রাখি রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সরলা ধরকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে মামলার মূল অভিযুক্ত মহাদেব ধর এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় তদন্তের সেই দিকটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে। আদালতের রায়ের পর দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় আপাতত দুই অভিযুক্তের সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।





