কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন দেখিয়ে অগ্রিম টাকা নেওয়া, বাজারে আনাজ-মাছে ক্ষতিকর রঙের ব্যবহার কিংবা দাঁড়িপাল্লায় কারচুপি উপভোক্তা প্রতারণার নানা অভিযোগ ঘিরে এ বার কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের সূচনা অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার কোনও অভিযোগই হালকা ভাবে দেখা হবে না। ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার হগ মার্কেট চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে ভুয়ো বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বুকিংয়ের নামে অগ্রিম টাকা নেওয়ার অভিযোগ তাঁর কাছে এসেছে। টাকা দেওয়ার পর প্রতিশ্রুত ফ্ল্যাট না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে অনলাইনে খাবার অর্ডারের নামেও প্রতারণার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, নিউটাউনের একটি বাড়ি থেকে এই ধরনের অভিযোগের তদন্তে ১২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় আদালতের রায় বা পুলিশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের তরফে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।
শুধু আবাসন বা অনলাইন পরিষেবা নয়, বাজারের দৈনন্দিন কেনাকাটাতেও নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আনাজ ও মাছে ক্ষতিকর রঙ মেশানো, পণ্যের ওজনে কারচুপি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
জেলায় জেলায় বাউল গান, লিফলেট এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে উপভোক্তার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠান থেকে আগের সরকারের আমলে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর অবহেলিত ছিল বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই দফতরকে আরও সক্রিয় করা প্রয়োজন। ফলে ক্রেতা সুরক্ষার বার্তা যে এ বার প্রশাসনিক নজরদারির কেন্দ্রে, তা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।





