খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১০ ফেব্রুয়ারিঃ দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের মাঝেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে মামলা গড়াল সুপ্রিম কোর্টে। মুসলমান সম্প্রদায়কে টার্গেট করে ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য ও কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন একাধিক সমাজকর্মী। মামলাকারীদের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য ও আচরণ সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং একজন মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক দায়িত্বের পরিপন্থী।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্য ও ভিডিও শুধু একটি সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করেনি, বরং সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। মামলাকারীরা সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি এ ধরনের মন্তব্য বা কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হতে পারেন। শুধু হিমন্ত নন, বিভিন্ন সময়ে বিজেপিশাসিত রাজ্যের একাধিক মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে নথিভুক্ত করা হয়েছে আবেদনে।
উল্লেখ্য, শনিবার অসম বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে টার্গেটে গুলি চালাচ্ছেন। টার্গেট বোর্ডে টুপি পরা সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের মুখের ছবি দেখা যায়। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। চাপ বাড়তেই বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়, কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি।
এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পাশাপাশি, মিম প্রধান ও হায়দ্রাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দীন ওয়েইসী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। ওয়েইসীর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।
তবে সমস্ত সমালোচনার মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় অসমের মুখ্যমন্ত্রী। হিমন্ত বিশ্বশর্মা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি জেলে যেতে প্রস্তুত। কিন্তু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্নে তিনি কোনও আপস করবেন না। এই অবস্থানই নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ককে আরও উসকে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।





