দিনহাটা, ৫ জুনঃ আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিনহাটা-১ ব্লকের পুঁটিমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের খারিজা বালাকুড়া এলাকা। শুক্রবার স্থানীয় উপভোক্তা ও গ্রামবাসীদের একাংশ পঞ্চায়েত সদস্যা লাভলি রেহানা হোসেন এবং তাঁর স্বামী জাকির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাস যোজনার উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশের পর একাধিক পরিবারের কাছ থেকে ১০ হাজার, ১৫ হাজার, ২০ হাজার এমনকি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের তির পঞ্চায়েত সদস্যা ও তাঁর স্বামীর দিকে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আবাস যোজনার ঘর অনুমোদনের সুযোগ করে দেওয়া এবং পরবর্তী কিস্তির টাকা পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে এই অর্থ আদায় করা হয়েছিল।
শুক্রবার সকালে বহু উপভোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দা তাঁদের দাবি নিয়ে পঞ্চায়েত সদস্যার বাড়িতে পৌঁছন। অভিযোগ, তাঁদের দেখতে পেয়েই বাড়ির মূল গেটে তালা লাগিয়ে ঘরের ভিতরে চলে যান পঞ্চায়েত সদস্যা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। উত্তেজনার মধ্যে বাড়ির গেটের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অভিযোগ, কয়েকজন বিক্ষোভকারী বাড়ির বাইরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দেন। পরে তাঁরা বাড়ির ভেতরে ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় উপভোক্তা পিংকি নমঃদাসের দাবি, আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি একজন বিধবা। তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে হয়। তবুও নানা চাপের মুখে আমাকে টাকা দিতে হয়েছিল। আজ সেই টাকা ফেরত চাইতে এসেছি।”
একই অভিযোগ করেন লতিফুর আলম নামে আরেক উপভোক্তা। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আটকে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে কাউকে টাকা দিতে হবে কেন? আমরা আমাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত চাই।”
এদিন আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। এক বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্মীর অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক কারণে তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণেই তাঁকে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে থাকতে হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই টাকাও ফেরতের দাবি তুলেছেন তিনি।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে অভিযোগের সুরাহা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ উপভোক্তারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।





