বীরভূম, ১৬ আগস্টঃ রামপুরহাটে প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা বলে দাবি করা এক পাতার চিঠিতে ‘অপমান’ এবং দুর্নীতির অভিযোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখার কথা থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
রবিবার সকালে বাড়ির কাছে দলীয় কার্যালয় থেকে আশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। একটি ঘরের ফ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি চিঠি। প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা।
চিঠিতে ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং দুর্নীতির সঙ্গে কোনও দিন জড়িত না থাকার দাবি করেছেন আশিস। টিআরডিএ-তে তাঁর ভূমিকা নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ‘ম্যালাইন’ বা অপমান করার অভিযোগ তুলে লিখেছেন, ‘‘রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে।’’
এই বক্তব্যকে সামনে রেখেই সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কাউকে জনসমক্ষে দোষী সাব্যস্ত করার প্রবণতার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। আশিসের শেষ চিঠিতে ‘অপপ্রচারের’ যে অভিযোগের ইঙ্গিত রয়েছে, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথাও বলেছেন তিনি।
কুণাল ঘোষও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, কোনও অভিযোগ প্রমাণের আগেই রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে কাউকে হেনস্থা করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত। পাশাপাশি আত্মহত্যা বলেই এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পাঁচ বারের বিধায়ক, প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী এবং বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিসের মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নের মুখে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। কী কারণে এই পরিণতি, নেপথ্যে কি সত্যিই কোনও রাজনৈতিক চাপ ছিল, নাকি অন্য কোনও রহস্য উত্তর খুঁজছে পুলিশ।





