কোচবিহার, ২০ জুনঃ জামাই ষষ্ঠী মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে আদর-আপ্যায়ন, পছন্দের খাবারের আয়োজন আর পারিবারিক উৎসবের উচ্ছ্বাস। আর সেই আবহই এদিন স্পষ্টভাবে ধরা পড়ল কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারে। সকাল হতেই বাজারে ভিড় জমাতে শুরু করেন শ্বশুর-শাশুড়িরা। উদ্দেশ্য একটাই—জামাইয়ের পাতে যেন কোনওভাবেই আদরের কমতি না থাকে। তাই ইলিশ, পাবদা, চিংড়ি, কাতলা-সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ কিনতে সকাল থেকেই বাজারমুখী হন বহু মানুষ।
ভবানীগঞ্জ বাজারের মাছের অংশে এদিন ছিল উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতাদের ভিড়ে কার্যত হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয় বাজারজুড়ে। কেউ খুঁজছেন বড় সাইজের কাতলা, কেউ আবার জামাইয়ের পছন্দের ইলিশ বা গলদা চিংড়ির খোঁজে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মাছের গুণমান, আকার এবং দাম বিচার করে পছন্দের মাছ কিনতেই ব্যস্ত ছিলেন অধিকাংশ ক্রেতা।
বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের মুখেও ছিল আলাদা উচ্ছ্বাস। তাঁদের কথায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় জামাই ষষ্ঠীর দিন বিক্রি অনেকটাই বেশি হয়। বিশেষ করে ইলিশ, পাবদা, চিংড়ি ও বড় কাতলার চাহিদা এদিন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে সকাল থেকেই বিক্রেতাদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। একাধিক বিক্রেতা জানান,উৎসবকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই তাঁরা বাড়তি মাছ মজুত করেছিলেন, আর তার বেশিরভাগই দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।
ক্রেতাদের একাংশের মতে, জামাই ষষ্ঠী শুধু একটি সামাজিক রীতি নয়, এটি পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতারও প্রতীক। তাই জামাইকে পছন্দের পদ রান্না করে খাওয়াতে ভাল মাছ কেনা যেন এই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব মিলিয়ে, জামাই ষষ্ঠী উপলক্ষে কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারে মাছ কেনাবেচাকে ঘিরে তৈরি হয় এক আলাদা উৎসবের আবহ, যা বাঙালির চিরন্তন পারিবারিক সংস্কৃতিকেই আরও একবার সামনে এনে দিল।






