মনিরুল হক, কোচবিহার: নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনই অন্যদিকে রাজ্য সরকারের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরলেন তিনি।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। নোটবন্দি, লকডাউন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব প্রমাণের নামে মানুষকে লাইনে দাঁড় করানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন বাঙালিদের নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে?
এই প্রসঙ্গেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “বাঙালি মাথা নত করবে না, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চলবে।” পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার সংস্কৃতি ও মনীষীদের অপমান করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তবে শুধু আক্রমণ নয়, এদিন তৃণমূল সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কোচবিহার জেলা হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করা হয়েছে, যা জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এছাড়াও প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কান্তেশ্বরী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করেছে।
এছাড়া রবীন্দ্র ভবনের সংস্কার কাজ এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার প্রায় প্রতিটি ঘরে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিই না, তা বাস্তবায়নও করি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন ও কেন্দ্র বিরোধী ইস্যুকে সামনে রেখে তৃণমূল তাদের প্রচারের মূল কৌশল তৈরি করেছে। ভোটের আগে এই বার্তা সাধারণ মানুষের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





