খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৫ জানুয়ারিঃ ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার গভীর জঙ্গলে টানা ৭২ ঘণ্টা ধরে চালানো ‘অপারেশন মেঘাবুরু’-তে অন্তত ১৭ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত চলা এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে অভিযানের মূল লক্ষ্য মাওবাদী পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ শেষ মুহূর্তে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় প্রথমে ১৬ জন মাওবাদীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরে শুক্রবার রাতে আরও একজনের দেহ উদ্ধার করা হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে রাজ্যে মাওবাদী দমন অভিযানে গতি আনা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে সারান্ডার জঙ্গলে নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করছিলেন মিসির বেসরা ও অসীম মণ্ডল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গলে অভিযান শুরু করে। তবে অভিযান চলাকালীন তারা দু’জনই আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যান। অসীম মণ্ডল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। পাশাপাশি, অসীমের দেহরক্ষী মঙ্গল মাহাতোও নিহত হননি এবং তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে শনিবারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
নিহত মাওবাদীদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ বাঁকুড়ার বাসিন্দা সুরেন্দ্রনাথ সরেন ওরফে সমীর এবং ওড়িশার সুন্দরগড় জেলার স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য রাপা মুন্ডা ওরফে পাবেল। এছাড়াও ঝাড়খণ্ডের চাইবাসা জেলার সোমবারি পূর্তি, সোমা হোনহাগা, মুক্তি হোনহাগা ও সরিতা হেমব্রমের মতো একাধিক সক্রিয় ক্যাডার নিহত হয়েছেন। কয়েকজন নিহতের পরিচয় এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে চারটি একে-৪৭ ও ইনসাস রাইফেল, তিনটি এসএলআর এবং তিনটি থ্রি নট থ্রি রাইফেল-সহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের ডিজি তাদাশা মিশ্র জানান, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মাওবাদী ক্যাডারদের একসঙ্গে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি সংগঠনের পক্ষে বড় ধাক্কা। মাওবাদী দমনে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।





