মনিরুল হক, কোচবিহারঃ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কোচবিহার রাসমেলা মাঠের সভা থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সীমানা পুনর্বিন্যাস, নাগরিকত্ব আইন, নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকে মমতা অভিযোগ করেন, দেশের সংসদীয় আসন সংখ্যা ৫৪১ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০-এ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “এই অজুহাতে দেশটাকে টুকরো টুকরো করার চক্রান্ত চলছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন দেখবেন কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, শিলিগুড়ির মতো জায়গার গুরুত্বই হারিয়ে যাবে।” তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করতে এবং রাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় তাঁকে লোকসভায় ২১ জন সাংসদ পাঠাতে হয়েছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বাইরের বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করানো হচ্ছে। আমি এমন নির্বাচন কোনওদিন দেখিনি।” শীতলকুচির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভোটের সময় গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনা আজও ভুলিনি। আবার সেই একই কায়দায় ধান্দাবাজি চলছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র বুলেটে নয়, ব্যালটেই প্রতিষ্ঠিত হয়।
মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ তুলে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়েও সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “বাইরের সংস্থা ভাড়া করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপের নামে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এটা আসলে প্রতারণার ফাঁদ।” তিনি দাবি করেন, মতুয়াদের আগেও এইভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল এবং এখন একই কৌশল সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এছাড়াও কোচবিহার জেলায় প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মাছে-ভাতে বাঙালির মাছ খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন, মাংস-ডিম নিয়েও বিধিনিষেধ চাপাচ্ছেন। তাহলে মানুষ কী খাবে?” তাঁর এই মন্তব্যে বিজেপির তথাকথিত কট্টরপন্থী নীতির সমালোচনা স্পষ্ট।
সবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেমন ইডি, সিবিআই সবকিছুকে ব্যবহার করেও তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তাঁর কথায়, “ওরা যতই চেষ্টা করুক, আমি একাই লড়াই চালিয়ে যাব। কারণ মানুষের সমর্থন আমার সঙ্গে আছে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, কোচবিহারের এই সভা থেকে তৃণমূল নেত্রীর আক্রমণাত্মক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।





