মাথাভাঙ্গা, ৯ আগস্টঃ কোথাও ফাঁদে আটকে পড়ছে পাইথন, কোথাও কচ্ছপ বা গোসাপ। আবার কোথাও জালের ভিতর ঢুকে আর বেরোতে পারছে না মৌরলা, কুঁচো চিংড়ি, দাঁড়িকানার মতো ছোট মাছ। বর্ষার মরসুমে নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে নির্বিচারে পাতা ‘চায়না দুয়ারি’ জাল ঘিরে এমনই উদ্বেগ বাড়ছে কোচবিহারে।
স্থানীয়দের একাংশের কাছে ‘শয়তান জাল’ নামে পরিচিত এই জাল মূলত লোহার রিং ও নাইলনের নেট দিয়ে তৈরি। একাধিক প্রবেশপথ থাকায় ছোট মাছ থেকে শুরু করে নানা জলজ প্রাণী সহজেই এর ভিতরে ঢুকে পড়ে। কিন্তু এক বার ঢুকলে বেরোনোর পথ থাকে না। দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে মৃত্যু হয় অনেক প্রাণীর। ফলে শুধু মাছের ভাণ্ডার নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গোটা জলজ বাস্তুতন্ত্র।
পরিবেশপ্রেমীদের অভিযোগ, জলজ প্রাণী ও পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই এই ধরনের জাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু নজরদারির ফাঁক গলে এখনও বিভিন্ন নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ে তার ব্যবহার চলছে।
সম্প্রতি কোচবিহারের একাধিক এলাকায় বন দফতর ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যৌথ অভিযানে ২২টি চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার হয়। তার পরেই ফের নড়েচড়ে বসে বন দফতর।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলতলা ফকিরের কুঠি এলাকায় তল্লাশি চালায় মাথাভাঙা বন দফতর। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও ছ’টি ‘শয়তান জাল’।
বন দফতর জানিয়েছে, আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, একটি জালে হয়তো ধরা পড়ছে কয়েক কেজি মাছ। কিন্তু তার সঙ্গে যদি মরে যায় একাধিক ছোট জলজ প্রাণী কিংবা সরীসৃপ, তার ক্ষতি মাপার হিসাব আরও অনেক বড়। তাই মাছ ধরার এই ‘সহজ’ পদ্ধতিই এখন জলজ জীববৈচিত্র্যের কাছে বড় বিপদ হয়ে উঠছে।





