অযোধ্যা, ২৯ জুনঃ রামমন্দিরের অর্থ তছরুপ-কাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। সর্বশেষ তদন্তে উঠে এসেছে, মন্দিরের দানের অর্থে কারচুপির অভিযোগ সামনে আসার পরও প্রায় ২০ দিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি। তার আগেই ট্রাস্টের উদ্যোগে অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে ফেরত নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ৪ জুন মন্দিরের অর্থে অনিয়মের বিষয়টি প্রথম ট্রাস্টের নজরে আসে। পরদিন ট্রাস্টের কয়েকজন কর্তা, নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালান। সূত্রের দাবি, ৫ জুন এক অভিযুক্তের বাড়ি থেকেই প্রায় ৫৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। পরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আরও অর্থ তুলে ৮ জুনের মধ্যে ট্রাস্টকে ফেরত দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হলেও অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম সন্দেহভাজন টিনু যাদবের বাড়িতে প্রথম দফার অভিযানে যায়নি ট্রাস্টের দল। পরে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তদন্ত শুরু করলে তাঁর কাছ থেকেই দানবাক্সে জমা পড়া মূল্যবান ধাতুর হদিস মেলে। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রাথমিক পর্যায়ে পদক্ষেপে গাফিলতির জেরেই প্রমাণ নষ্ট বা সম্পদ সরিয়ে ফেলার সুযোগ মিলেছিল।
এ ছাড়াও অভিযোগ, পুরো উদ্ধার অভিযানে ট্রাস্টের সরকারি নথিভুক্ত গাড়ির বদলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে অভিযানের কোনও আনুষ্ঠানিক রেকর্ড না থাকে। এই অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আট জন গ্রেফতার হয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতির মধ্যেই ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই ও সদস্য অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের পাশাপাশি ট্রাস্ট-সংশ্লিষ্ট আরও কয়েক জন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন। ফলে অর্থ তছরুপের পাশাপাশি তদন্তের শুরুতে ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রামমন্দির কর্তৃপক্ষ।






