নিজস্ব সংবাদদাতা, ২০ জুলাইঃ সরকারে এলেই সংগঠনের চরিত্র বদলাবে না। ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট বা হিংসার অভিযোগ উঠলে কোনও নেতা বা কর্মীকেই রেয়াত করা হবে না। অমিত শাহের রাজ্য সফরের পর রবিবার রাতে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে এমনই কড়া বার্তা দেওয়া হল সংগঠনের সব স্তরে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাসভবনে হওয়া ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, অমিত মালব্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, শশী অগ্নিহোত্রী-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয়, সাংগঠনিক বিস্তার এবং প্রশাসনের কাজের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার রূপরেখা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
দলীয় সূত্রের খবর, অমিত শাহ রাজ্য নেতৃত্বকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনকে নিচুতলায় আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং সরকারে থাকার কারণে কোনও ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা যাবে না। সেই বার্তাই দ্রুত জেলা নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সম্প্রতি দলবদল করে বিজেপিতে আসা নেতাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
বৈঠকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কেউ যদি তোলাবাজি, দখলদারি বা সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না দল। বিজেপির একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ‘নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ গড়ার প্রতিশ্রুতিই দলের অন্যতম মূল অঙ্গীকার, তাই সেই ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এর আগে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও একাধিকবার বলেছিলেন, মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন। ফলে অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হলে সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
কোর কমিটির বৈঠকে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাজের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা বজায় রাখার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের কাজের সাফল্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনকে সক্রিয় ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখাই আগামী দিনের মূল লক্ষ্য বলে বৈঠক শেষে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।





