পাটনা, ১৪ এপ্রিলঃ দীর্ঘ প্রায় দু’দশকের রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নীতীশ কুমার। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি পাটনার লোক ভবনে পৌঁছে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেন। পাশাপাশি, বিহারের মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ারও প্রস্তাব জানান তিনি।
ইস্তফার পর নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে নীতীশ কুমার তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা স্মরণ করেন। তিনি লেখেন, ২০০৫ সালের ২৪ নভেম্বর বিহারে প্রথমবার এনডিএ সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকার সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য কাজ করেছে হিন্দু, মুসলিম, উচ্চবর্ণ, অনগ্রসর শ্রেণি ও দলিতদের জন্য সমানভাবে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নারী ও যুব সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁর প্রশাসনে। নতুন সরকার এই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত শুক্রবারই রাজ্যসভায় শপথ নিয়েছিলেন নীতীশ, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নীতীশ কুমারের ইস্তফার পর বিহারে নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী-এর নামই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। গত দু’বছর ধরে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বিজেপির মধ্যে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে, নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমারের নামও প্রথমদিকে আলোচনায় এলেও, সময়ের সঙ্গে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে যায়। তবে তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে শিবরাজ সিং চৌহান-কে নিয়োগ করেছে। বিহারে নতুনসরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার বিহারে বিজেপির কোনও নেতা মুখ্যমন্ত্রী পদে বসতে পারেন। ফলে এই পরিবর্তন শুধু রাজ্যের রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত কে বিহারের মসনদে বসেন এবং কীভাবে নতুন সরকার নিজেদের দিশা নির্ধারণ করে।





