বনগাঁ, ৭ এপ্রিলঃ এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন ভোটারদের নামের নিষ্পত্তির পর নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল রাজ্যে। সোমবার গভীর রাতে ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিচারাধীন প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষের কিছু বেশি মানুষকে ‘যোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে বাকি বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন।
কমিশনের তরফে জানানো হলেও, ঠিক কোন কারণে এত সংখ্যক ভোটারকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করা হল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এই বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে কারা রয়েছেন তাঁরা মৃত, নাকি অন্য কোনও কারণে অযোগ্য তা স্পষ্ট নয়। এই অস্পষ্টতাকেই কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বনগাঁর মতুয়াগড়ে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, পরিকল্পিতভাবে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়, “যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, তাঁদের নাম ফের তুলতে আমরা ট্রাইব্যুনালে যাব। চেষ্টা করব ভোটের আগেই তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে।”
তিনি আরও দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবিক কারণেও ভোটারদের নাম বাদ পড়ে থাকতে পারে। যেমন, কোনও মহিলা বিয়ের পর অন্য এলাকায় চলে গেলে তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ঘটনাকে অন্যায় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এভাবে নাম কেটে দেওয়া ঠিক নয়, এই নামগুলো ফের তুলতেই হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের ঠিক আগে এই ধরনের ইস্যু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বনগাঁ ও মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই বিষয়টি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, এই অঞ্চলে ভোটার তালিকা নিয়ে সংবেদনশীলতা বরাবরই বেশি।
এদিকে বিরোধী শিবির অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং নিয়ম মেনেই যাচাই-বাছাই চলছে। তবে তৃণমূলের তরফে এই ইস্যুকে সামনে এনে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেই মত অনেকের।
সব মিলিয়ে, এসআইআর তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া ভোটারদের প্রশ্নে রাজ্যের রাজনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। ভোটের আগে এই বিতর্ক কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।





