কোচবিহার, ২২ মেঃ চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত ও ল্যান্ড পোর্ট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে কোচবিহার জেলাশাসকের দপ্তরে বৈঠক করলেন জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জয়ন্ত রায় এবং মেখলিগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায়। শুক্রবার দীর্ঘক্ষণ ধরে জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সীমান্ত সমস্যা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন সাংসদ জয়ন্ত রায়।
সাংসদ অভিযোগ করে জানান, ২০১৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলার দিশা কমিটির কোনও বৈঠকই ডাকা হয়নি। অথচ তিনি নিজেই ওই কমিটির চেয়ারম্যান। পাশাপাশি কোচবিহার জেলার কো-চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে দিশা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছর ধরে কোনও বৈঠক না হওয়ায় প্রকল্পগুলির বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি।
জয়ন্ত রায়ের অভিযোগ, তৎকালীন রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই এই বৈঠক হতে দেয়নি। বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিত দিশা কমিটির বৈঠক হওয়া জরুরি বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, “কেন্দ্রের টাকা কোথায় কীভাবে খরচ হচ্ছে, তার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দিশা কমিটির বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিনের বৈঠকে চ্যাংড়াবান্ধা ল্যান্ড পোর্টের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সাংসদ জানান, বহুদিন ধরে জমি সমস্যার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে রয়েছে। মোট ৩০ একর জমির প্রয়োজন হলেও ইতিমধ্যে ২৩.৬ একর জমি প্রশাসনের তরফে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬.৪ একর জমি দ্রুত হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।
জয়ন্ত রায় বলেন, “চ্যাংড়াবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট চালু হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।” সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে দাবি তাঁর।
অন্যদিকে বিধায়ক দধিরাম রায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্প নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা মেটানোর লক্ষ্যেই এদিনের বৈঠক। প্রশাসনের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর আশা, খুব দ্রুত জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে এবং চ্যাংড়াবান্ধা ল্যান্ড পোর্টের কাজ বাস্তব রূপ পাবে।
এদিনের বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





