কলকাতা, ২২ মেঃ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠল পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী-র বিরুদ্ধে। এলাকার কয়েকজন যুবকের কাছ থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হলেও চাকরি মেলেনি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পাণ্ডবেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জোয়ালভাঙা গ্রামের বাসিন্দা খগেন্দ্রনাথ মণ্ডল।
অভিযোগকারী খগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের দাবি, জমি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে পরিচয়ের সূত্রেই প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। এরপর এলাকার ১৫ জন যুবককে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। প্রত্যেকের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা করে মোট ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। ধাপে ধাপে পরিবারের সদস্যরা প্রায় ২০ লক্ষ টাকা জোগাড় করেন এবং সেই টাকা বিধায়কের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে দাবি খগেন্দ্রনাথের।
তবে দীর্ঘদিন কেটে গেলেও চাকরি মেলেনি। পরে টাকা ফেরতের দাবি জানানো হলে নানা অজুহাত দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। খগেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, “অনেকেই ধারদেনা করে টাকা দিয়েছেন। চাকরি তো হয়ইনি, উল্টে টাকা ফেরতও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়েই থানার দ্বারস্থ হয়েছি।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আমি মানুষের পাশে থেকেছি, কারও সঙ্গে প্রতারণা করিনি।”
এদিকে একই দিনে দুর্গাপুরের ফরিদপুর-লাউদোহা এলাকায় তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের ব্লক সভাপতি শেখ ওয়াসুল-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি এবং ভোটারদের উপর চাপ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। যদিও শেখ ওয়াসুলের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও কখনও কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি।





