বাঁকুড়া, ২২ মেঃ ছত্তিশগড়ে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হওয়া সিআরপিএফ জওয়ান শুভাশিস দে-র মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে পৌঁছল বাঁকুড়ার সিমলাপালে। নিজের বাড়িতে জওয়ানের নিথর দেহ ফিরতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। প্রিয় মানুষটিকে শেষবার দেখতে বাড়ির সামনে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সি শুভাশিস দে সিমলাপাল বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সিআরপিএফ-এর ১৬৫ নম্বর ব্যাটেলিয়ানে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তাঁর পোস্টিং ছিল ছত্তিশগড়ের রায়পুরে। কয়েকদিন আগে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে জগদলপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মৃত্যু হয় জওয়ানের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন ভাইয়ের মধ্যে শুভাশিস ছিলেন বড়। তাঁর অকালপ্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তানকে রেখে গেলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র ভরসা হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার।
বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছতেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন এলাকার বাসিন্দারা। দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করা জওয়ানকে সম্মান জানিয়ে ওঠে ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি। এলাকার বহু মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁকে।
পরে রাতেই স্থানীয় শিলাবতী নদীর তীরে সিমলাপালের সতীঘাটে সম্পন্ন হয় শুভাশিস দে-র শেষকৃত্য। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তালডাংরার প্রাক্তন বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহ এবং তালডাংরা বিধানসভার বিধায়ক সৌভিক পাত্র। তাঁরা জওয়ানের মরদেহে ফুলের তোড়া অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান। গোটা সিমলাপাল এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।





