শীতলকুচি, ২৬ ফেব্রুয়ারিঃ দু’মুঠো রোজগারের আশায় ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া ১৯ বছরের মিন্টু বর্মনের জীবনসংগ্রাম থেমে গেল মর্মান্তিক পরিণতিতে। কেরালায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর পর বুধবার তাঁর নিথর দেহ ফিরতেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় শীতলকুচি ব্লকের খলিসামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সাঙ্গার বাড়ি এলাকা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল মিন্টু। এক দিদি ও এক বোনের বিয়েতে যথেষ্ট অর্থব্যয় হওয়ায় পরিবার আর্থিক চাপে পড়ে। বাড়িতে তেমন জমিজমা নেই। বাবা-মাও ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করে কোনওমতে সংসার চালাতেন। সেই পরিস্থিতিতে কয়েক মাস আগে মিন্টু কাজের সন্ধানে পাড়ি দেয় কেরালা-য়।
গত কয়েকদিন আগে যেখানে সে কাজ করত, সেখানেই রান্না করার সময় আচমকাই অগ্নিদগ্ধ হয় সে। স্থানীয়ভাবে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অবশেষে তার দেহ নিজ গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়।
নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন মা-বাবা ও স্বজনরা। প্রতিবেশীরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। যে ছেলেটি পরিবারের হাল ধরতে দূর রাজ্যে গিয়েছিল, সে-ই আজ কফিনবন্দি হয়ে ফিরল।
গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কত স্বপ্ন যে মাঝপথেই নিভে যায় মিন্টুর মৃত্যু যেন সেই নির্মম বাস্তবকেই আবার সামনে এনে দিল। তার অসমাপ্ত স্বপ্ন আর পরিবারের আর্তনাদ দীর্ঘদিন তাড়া করে বেড়াবে সাঙ্গার বাড়ি এলাকার মানুষকে।





