খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৪ এপ্রিলঃ কেরলের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার ‘মমতা মডেল’-এর পথেই হাঁটতে দেখা গেল বিজেপিকে। আগামী ৯ এপ্রিলের নির্বাচনের আগে নিজেদের ইস্তেহার প্রকাশ করে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির প্রকাশিত ইস্তেহারে দাবি করা হয়েছে, দরিদ্র পরিবারের মহিলা প্রধানদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিধবা ও ৭০ ঊর্ধ্ব প্রবীণদেরও একই পরিমাণ ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রকল্পগুলির মধ্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে মমতা ব্যানার্জী-র চালু করা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ছায়া।
শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও ‘আরোগ্য সুরক্ষা কার্ড’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি, যেখানে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অর্থ রিচার্জ করে বিনামূল্যে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সুযোগ থাকবে। এটিকেও বাংলার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের অনুকরণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া ইস্তেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দরিদ্র পরিবারগুলিকে বছরে দু’টি করে বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়া হবে বড়দিন ও ওনাম উপলক্ষে। সঙ্গে রয়েছে বছরে ২০ হাজার লিটার বিনামূল্যে পানীয় জল সরবরাহ, নতুন রেলপথ ও মেট্রো প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, কেরলে এখনও পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারেনি বিজেপি। তাই দক্ষিণের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নিজেদের জমি শক্ত করতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারা। এর আগে মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালু করে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যেসব প্রকল্পকে ‘খয়রাতি’ বলে সমালোচনা করা হত, বর্তমানে সেই মডেলই বিভিন্ন রাজ্যে গ্রহণ করছে বিভিন্ন দল। কেরলের ভোটেও সেই ‘মমতা মডেল’ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





