বাঁকুড়া, ১ মে: অকাল ঝড়-বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর দাপটে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়লেন ইন্দাস ব্লকের কৃষকরা। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুতে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। ফলে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ধান জলের তলায় তলিয়ে গিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গোবিন্দপুর, ঠাকুরাণী পুষ্করীণী, পাহাড়পুর, শিমুলিয়া ও করিশুন্ডা এলাকায়। যতদূর চোখ যায়, শুধু জলমগ্ন ধানখেত। কোথাও ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ডুবে গেছে জলের নিচে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু হঠাৎ এই দুর্যোগে সেই আশা ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এবছর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই আশায় ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু আচমকা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সব হিসেব ওলটপালট হয়ে গেছে। জমিতে হাঁটুসমান জল জমে থাকায় ধান কাটাও এখন সম্ভব নয়। এর ফলে ধানের শিষে পচন ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকা ধান দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় থাকলে শুধু ফলনই কমে না, গুণগত মানও মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়। ফলে বাজারে সেই ধানের দামও কমে যেতে পারে, যা কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়াবে।
এদিকে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষকদের একটাই দাবি, দ্রুত সরকারি সাহায্য ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক। কারণ এই ক্ষতি শুধু বর্তমান মরশুমেই নয়, আগামী চাষের উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।





