শীতলকুচি, ১ মেঃ দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর অবশেষে সাত পাকে বাঁধা পড়ল বট ও পাকুড় গাছ। সামাজিক রীতি-নীতি, মন্ত্রোচ্চারণ ও পুরোহিতের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হল এই অভিনব বিয়ে। ঘটনাটি শীতলকুচি ব্লকের গোসাইরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত খেন্সি কাছারিঘাট এলাকায়। বিরল এই আয়োজন ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও উৎসবের আবহ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় ধাপের চাতরা এলাকার বাসিন্দা পরমেশ্বর বর্মনের তিন কন্যা সন্তান থাকলেও পুত্র সন্তান নেই।
অন্যদিকে একই এলাকার বিষ্ণুপ্রসাদ বর্মনের এক পুত্র সন্তান থাকলেও কন্যা সন্তান নেই। এই আক্ষেপ থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে এক অভিনব ভাবনার জন্ম হয়। নিজেদের অপূর্ণ ইচ্ছাকে প্রতীকী রূপ দিতে বট গাছকে পাত্রী ও পাকুড় গাছকে পুত্র রূপে ধরে সামাজিক নিয়ম মেনে তাদের বিবাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।নির্ধারিত দিনে ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিয়ের অনুষ্ঠান।
পুরোহিত বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সাত পাক ঘুরিয়ে সম্পন্ন করেন বিবাহ। উপস্থিত গ্রামবাসীরাও নাচে-গানে মেতে ওঠেন। অনেকেই এই বিরল দৃশ্য মোবাইলে বন্দি করেন।অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে মিষ্টান্ন বিতরণ করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল পরমেশ্বর বর্মনের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বহু মানুষের সমাগম হবে বলেও জানা গেছে।
এই বিষয়ে পরমেশ্বর বর্মনের ভাই নির্মল বর্মন জানান, দাদার বহুদিনের ইচ্ছে ছিল ছেলে না থাকার কষ্ট ভুলে একবার জাঁকজমক করে বিয়ের আয়োজন করবেন। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই এই অভিনব অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।গ্রাম বাংলার লোকাচার, বিশ্বাস ও আনন্দময় সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য নজির হয়ে রইল এই বট-পাকুড়ের বিয়ে।





