কলকাতা, ১২ জুনঃ দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চলতি বছর থেকে দুর্গাপুজোর অনুদান সব ক্লাব সমানভাবে পাবে না। যেসব ক্লাব অনুদানের উপর নির্ভর করেই পুজোর আয়োজন করে, শুধুমাত্র তারাই সরকারি সহায়তা পাবে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাদের দরকার নেই, তাঁদের দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁরা ওই অর্থের জন্যই পুজো করতে পারেন, তাঁরা অনুদান পাবেন।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিপুল বাজেটের বড় পুজো কমিটিগুলি এবার সরকারি অনুদানের আওতার বাইরে চলে যেতে পারে। পরিবর্তে আর্থিকভাবে দুর্বল বা ছোট ক্লাবগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ভাবনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অনুদান চালু করেন। প্রথম বছরে প্রতিটি ক্লাবকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অনুদানের পরিমাণ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ সালে রাজ্যের প্রায় ৪৪ হাজার পুজো কমিটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিল। ফলে এই খাতে সরকারের বিপুল অঙ্কের ব্যয় নিয়ে বিরোধীদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলেছিল।
সরকার পরিবর্তনের পর ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ভাতা ও অনুদান পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে অনুদান পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, বরং নতুন নীতিতে বণ্টন করা হবে।
সূত্রের খবর, অনুদান পেতে ক্লাবগুলিকে একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হতে পারে। সেখানে জমা দেওয়া আর্থিক তথ্য ও পুজোর বাজেটের ভিত্তিতেই কোন ক্লাব সরকারি সহায়তা পাবে, তা নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার। তবে সেই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।











