দার্জিলিং, ১৬ জুনঃ একসময় গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের অন্যতম মুখ, পরে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরে আবারও পাহাড়ের রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসছেন গোর্খা নেতা বিমল গুরুং। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকে পাহাড়ে তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাও নতুন করে রাজনৈতিক অক্সিজেন পেয়েছে।
২০১৭ সালে দার্জিলিংয়ে পুলিশ অভিযানের সময় সাব-ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন বিমল গুরুং। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয় তাঁকে। পাহাড়ের রাজনীতিতে তখন নতুন মুখ হিসেবে উঠে আসেন অনীত থাপা, অজয় এডওয়ার্ড এবং অন্যান্য নেতারা। অনেকেই মনে করেছিলেন, গুরুংয়ের রাজনৈতিক অধ্যায় হয়তো শেষের পথে।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন বিমল গুরুং। পাহাড় ও সমতলে সক্রিয়ভাবে প্রচারেও অংশ নেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে বিজেপির সাফল্যের পিছনে গুরুংয়ের সাংগঠনিক প্রভাব এবং জনভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
মঙ্গলবার কালিম্পং সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভার মঞ্চেও দেখা যায় বিমল গুরুংকে। সেখানে পাহাড়ের উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ, পুলিশে নিয়োগ এবং জিটিএ-র আর্থিক অনিয়মের তদন্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। গুরুংও সম্প্রতি জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন এবং বিভিন্ন আন্দোলনমূলক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানে পাহাড়ে গুরুংয়ের সমকক্ষ প্রভাবশালী নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। ফলে তিনি আবারও পাহাড়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। একসময় সুবাস ঘিসিংয়ের রাজনৈতিক প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে যিনি পাহাড়ের নেতৃত্বে উঠে এসেছিলেন, সেই বিমল গুরুং এখন আবারও পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





