কোচবিহার, ৭ আগস্টঃ চাকা এখনও ঘুরছে, কিন্তু ভবিষ্যৎ যেন থমকে। ১৫ বছরের বেশি পুরনো ট্রাক বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কোচবিহারে রাস্তায় নামলেন ট্রাক মালিকেরা। তাঁদের একটাই প্রশ্ন পুরনো গাড়ি তুলে দিলে নতুন ট্রাক কেনার সামর্থ্য কোথায়?
শুক্রবার কোচবিহারে ট্রাক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন জেলার বহু ট্রাক মালিক ও পরিবহণ ব্যবসায়ী। সংগঠনের দাবি, ১৫ বছরের বেশি পুরনো ট্রাক বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ছোট ও মাঝারি ট্রাক মালিকদের বড় অংশ চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়বেন। অনেকের পক্ষেই নতুন গাড়ি কেনা সম্ভব নয়। ফলে পরিবহণ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, একটি ট্রাক শুধু একটি গাড়ি নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের রুজি-রোজগার। চালক, খালাসি, মেকানিক থেকে শুরু করে পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জীবিকা নির্ভর করে এই ট্রাকগুলির উপর। তাই এক ধাক্কায় পুরনো গাড়ি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহু পরিবারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে বলেই তাঁদের আশঙ্কা।
ট্রাক মালিকদের দাবি, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরকার যেন সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ গাড়িগুলিকে রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি ১৫ বছরের পুরনো ট্রাক বাতিলের নিয়ম প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য, পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই জীবিকা রক্ষার প্রশ্নও সমানভাবে বিবেচনা করা উচিত।
গণ-অবস্থান থেকে সরকারকে দ্রুত আলোচনায় বসার আবেদন জানান আন্দোলনকারীরা। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। কোচবিহারের এই প্রতিবাদ তাই শুধু একটি জেলার পরিবহণ ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ নয়, জীবিকা ও নীতির ভারসাম্য নিয়ে বৃহত্তর এক প্রশ্নও তুলে দিল।





