হাওড়া, ২ অক্টোবরঃ হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন সবজি বাজার। ব্যস্ত এলাকা, চারপাশে লোকজনের আনাগোনা। সেই ভিড়ের মধ্যেই দিনের আলোয় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ। ২৮ সেপ্টেম্বরের সেই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা এলাকায়। তদন্তে নেমে তিন দিনের মধ্যেই সেই অপহরণ-কাণ্ডের কিনারা করল হাওড়া সিটি পুলিশ। লিলুয়ার বি রোডের একটি বহুতল আবাসনে অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ী পিয়ারিলাল পাসিকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে সাত জনকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, হাওড়া স্টেশন চত্বর সংলগ্ন সবজি বাজারে ছোটখাটো ব্যবসা করতেন পিয়ারিলাল। মূলত উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি কর্মসূত্রে হাওড়ায় থাকতেন। ২৮ সেপ্টেম্বর স্টেশন চত্বর থেকেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে ঘটনার দু’দিন পর, ৩০ সেপ্টেম্বর পরিবারের তরফে গোলাবাড়ি থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ।
প্রথমে স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়। এর মধ্যেই পিয়ারিলালের পরিবারের কাছে আসে মুক্তিপণের ফোন। মোটা টাকা দাবি করে তাঁদের লিলুয়ার বি রোডের একটি আবাসনে যেতে বলা হয়। সেই ফোনের সূত্র ধরেই তদন্তে নতুন মোড় আসে।
বৃহস্পতিবার রাতে ওই ফোনের সূত্র ধরে বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আবাসনটি ঘিরে ফেলে গোলাবাড়ি ও লিলুয়া থানার পুলিশ। এর পর চলে তল্লাশি। শেষ পর্যন্ত আবাসনের ভিতর থেকেই উদ্ধার করা হয় পিয়ারিলালকে। গ্রেফতার করা হয় রিশভ সাউ, সুজয় সাহা, সিরাজ খান, সুরজ মল্লিক, মাহফুজ আলম, রাজু কর্মকার ও রাহুল মল্লিককে।
তল্লাশিতে পুলিশের হাতে আসে বিপুল অস্ত্রও। উদ্ধার হয়েছে সাতটি বন্দুক, ৫০ রাউন্ড গুলি, ন’টি মোবাইল ফোন, একটি ট্যাব এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই অতীতে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক জন খুনের মামলায় অভিযুক্ত এবং গোলাবাড়ি থানার একটি খুনের মামলায় ১৬ বছর জেলও খেটেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
শুক্রবার ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলা হয়। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও একটাই দিনেদুপুরে পিয়ারিলালকে কেন অপহরণ করা হয়েছিল? মুক্তিপণই কি একমাত্র উদ্দেশ্য, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও যোগ? সেই উত্তর খুঁজতেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।





