শিলিগুড়ি, ৭ আগস্টঃ নদীর বুক থেকে বালি তোলাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গ। অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে বালি উত্তোলন, সরকারি রাজস্বে ফাঁকি এবং প্রশাসনের নীরবতা। সেই অভিযোগ ঘিরেই শুক্রবার ফুলবাড়ি ব্যারেজ সংলগ্ন বালি খাদানে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। আর তার মধ্যেই অভিযানে নেমে তিনটি বালি বোঝাই ডাম্পার আটক করল পুলিশ।
শুক্রবার সকালে খাদান এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি নিয়ম অমান্য করে বালি উত্তোলন চলছে। এতে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্বও ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, বারবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় নিউ জলপাইগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরে খাদান এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে তিনটি বালি বোঝাই ডাম্পার আটক করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার হয় একটি প্রিন্টার মেশিন এবং বালি পরিবহণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, যা তদন্তের জন্য বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া নথি এবং ডাম্পারগুলির কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বালি উত্তোলন ও পরিবহণে সরকারি নিয়ম মানা হয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল কি না এবং কোনও আর্থিক অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, এই খাদানে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালীদের মদতে নিয়ম ভেঙে বালি তোলা চলছে। অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ঘটনার পর গোটা খাদান এলাকা জুড়ে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত নথি ও আটক গাড়িগুলি পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ফুলবাড়ির এই ঘটনাকে ঘিরে বালি উত্তোলনের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





