শিলিগুড়ি, ৭ আগস্টঃ মাত্র কয়েক মিনিটের অসাবধানতা। এটিএম থেকে টাকা তুলে বেরোনোর আগেই আটকে গেল কার্ড। দেওয়ালে টাঙানো ‘হেল্পলাইন’ নম্বরে ফোন করতেই শুরু হল প্রতারণার ফাঁদ। আর সেই ফাঁদের সূত্র ধরেই এবার আন্তঃরাজ্য এটিএম জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল মাটিগড়া থানার পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। আঠারোখাই এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর বর্মন শিবমন্দির এলাকার একটি এটিএমে ৫ হাজার টাকা তুলতে যান। লেনদেন শেষ হলেও তাঁর এটিএম কার্ডটি যন্ত্রের ভিতর আটকে যায়। ঠিক সেই সময় এটিএমের দেওয়ালে লাগানো একটি তথাকথিত ‘হেল্পলাইন’ নম্বরে ফোন করলে তাঁকে জানানো হয়, সমস্যার সমাধানের জন্য বাগডোগরায় যেতে হবে। সন্দেহ হওয়ায় কিছুক্ষণ পর তিনি ফের এটিএমে ফিরে এসে দেখেন, কার্ডটি আর নেই। পরে জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৮ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
পরদিন মাটিগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে সাদা পোশাকের পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। এরপর বিশেষ পুলিশ দল আসামের কামাখ্যায় অভিযান চালিয়ে বিহারের নালন্দা জেলার রাজগীর থানার বেলাউর গ্রামের বাসিন্দা সুমিত কুমারকে গ্রেপ্তার করে। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে শিলিগুড়িতে আনা হয়েছে এবং শুক্রবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পুলিশের দাবি, একটি সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য জালিয়াতি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এটিএমে স্কিমার বা জ্যামার বসিয়ে কার্ড আটকে রাখত। এরপর ভুয়ো হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশা, আসানসোল, বর্ধমান এবং আসামের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
এই চক্রের মূল পান্ডা-সহ বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করেছে মাটিগড়া থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, সাধারণ মানুষের সামান্য সতর্কতাই এমন প্রতারণা রুখতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।





