কলকাতা, ১৬ জুনঃ আগামী ১৮ জুন শুরু হতে চলা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের আগে নতুন করে চাপে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার বিধানসভায় অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অভিযোগ, তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরিবর্তে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের প্রতিনিধিদের।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। সেই প্রেক্ষাপটে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেও ঋতব্রত শিবিরকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বিধানসভায় বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিনের বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, রেজিনগরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং ডোমকলের বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাজেট অধিবেশনের কর্মসূচি ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের ৬৫ জন বিধায়ক নিজেদের বিরোধী শিবিরের অংশ হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের পর থেকেই বিধানসভার অভ্যন্তরে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সর্বদলীয় বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা কুণাল ঘোষের মতো নেতাদের অনুপস্থিতি এবং ঋতব্রত শিবিরের উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিধানসভায় বিরোধী রাজনীতির ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন সমীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এখন নজর ১৮ জুনের বাজেট অধিবেশনের দিকে। সেখানে বিরোধী শিবিরের ভূমিকা, নেতৃত্ব এবং কৌশল কী হবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।





