কলকাতা, ৪ সেপ্টেম্বরঃ বৃষ্টি থামার নাম নেই। নদীগুলিও ফুলেফেঁপে উঠেছে। তার উপর বাঁধে বাড়ছে জলের চাপ। নিম্ন দামোদর উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া এবং উদয়নারায়ণপুরে কোথাও কোথাও জল বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। বর্ষার এই ‘চেনা আতঙ্ক’-এর মধ্যেই এ বার পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে মাঠে নামাল রাজ্য সরকার।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার জলসম্পদ ভবনে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকেরাও ছিলেন। কোথায় জল বাড়ছে, কোথা থেকে মানুষকে সরাতে হবে, কোথায় ত্রাণ পৌঁছচ্ছে সব দিক নিয়েই আলোচনা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিপজ্জনক এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গবাদি পশু যাতে জলের তোড়ে বিপদে না পড়ে, তার জন্যও ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য খাবার ও পানীয় জলের বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে রয়েছে SDRF, NDRF এবং সিভিল ডিফেন্সের দল।
তবে পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা আপাতত বাঁধ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রবল বৃষ্টি ও জলের চাপে এখনও কোনও বাঁধ ভাঙেনি। তাঁর কথায়, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়েছে। বিকেলের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে জল নামার অপেক্ষায় বসে থাকার সুযোগ নেই। ঘাটালের একটি স্কুল জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি ক্লাসরুমে সাপ ঢোকার ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে বন্যার সঙ্গে এবার নতুন আতঙ্কও যোগ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রতি বর্ষাতেই নিম্ন দামোদর উপত্যকার প্লাবন নতুন করে প্রশ্ন তোলে বাঁধ ও জল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে। এ বার সেই প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনের প্রস্তুতির পরীক্ষাও। আপাতত লক্ষ্য একটাই জল বাড়লেও যেন বিপদ না বাড়ে।





