কলকাতা, ৪ সেপ্টেম্বরঃ কেউ পেনশনের আশায় এক বছরের বেশি সময় ধরে দরজায় দরজায় ঘুরেছেন। কারও পৈতৃক জমিতে নাকি থাবা বসিয়েছে দখলদার চক্র। কারও স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত, অথচ অনুমোদন হয়ে গেলেও হাতে আসেনি আয়ুষ্মান কার্ড। আবার সরকারি দফতরের কাজ শেষ করে প্রায় ন’বছর কেটে গেলেও চার লক্ষের বেশি টাকা পাননি এক ঠিকাদার। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ায় যেন এক টেবিলেই এসে জড়ো হল এমন নানা অভিযোগ। আর সেই টেবিলের উল্টো দিকে ছিলেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা।
পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনে ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত জনশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা জানান। জেলাশাসক সুধীর কোস্থম, অতিরিক্ত জেলাশাসক উৎকর্ষ সিং-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা অভিযোগ শোনেন। কোথাও তাৎক্ষণিক সমাধান, কোথাও আবার শুরু হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া।
মানবাজারের স্বপনকুমার দাঁর অভিযোগ, ২০১৭ সালে মহকুমাশাসকের কার্যালয় সাজানো-গোছানোর কাজ করেছিলেন তিনি। কাজ শেষ হওয়ার পর কেটে গিয়েছে ন’বছর। এখনও তাঁর পাওনা চার লক্ষের বেশি টাকা। প্রশাসনের দাবি, টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্বপনের বক্তব্য, তিনি সেই টাকা পাননি। জনশুনানিতে বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখার আবেদন করেন তিনি।
পুরুলিয়া শহরের নডিহার বাসিন্দা বিভাস ভৌমিকের সমস্যাটা আরও জরুরি। তাঁর স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য আয়ুষ্মান কার্ডের অনুমোদন মিললেও হাতে আসেনি কার্ড। জনশুনানিতে বিষয়টি জানানোর পর দ্রুত কার্ড দেওয়ার আশ্বাস মেলে তাঁর। মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি।
জেলাশাসক বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে জনশুনানি। অভিযোগ ও তার পরবর্তী পদক্ষেপ নথিভুক্ত হবে নির্দিষ্ট পোর্টালেও। অভিযোগের পাহাড় নয়, সমাধানের দরজা কতটা খোলা পুরুলিয়ার এই জনশুনানি এখন সেই পরীক্ষার মঞ্চ।





