কলকাতা, ৪ সেপ্টেম্বরঃ কপালে চন্দনের তিলক। স্কুলে ঢোকার পরই তা মুছে দেওয়ার অভিযোগ। শুধু এক দিন নয়, দিনের পর দিন নাকি একই ঘটনা। শেষ পর্যন্ত সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে নিজের অভিযোগের কথা জানায় কলকাতার এক মিশনারি স্কুলের খুদে পড়ুয়া। আর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনে এক অনুষ্ঠানে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, কে কপালে তিলক রাখবেন, কে তুলসীর মালা পরবেন এটি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পরম্পরার বিষয়। স্কুলে সেই বিশ্বাসে হস্তক্ষেপের অভিযোগকে হালকা ভাবে নেওয়া হবে না বলেও কার্যত বার্তা দেন তিনি।
শুক্রবার জলসম্পদ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনাটি কলকাতার হলি মিশন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে FIR-ও। অর্থাৎ সোশাল মিডিয়ার একটি ভিডিও থেকে ওঠা অভিযোগ পৌঁছে গেল প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপের স্তরে।
তবে একই দিনে আরও একটি ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়েছে শিক্ষা দফতর। বিকাশ ভবনের এক কর্মীর বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নজরে আসার পর তাঁকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের আচরণবিধি নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বা দেশের সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না।
একই সঙ্গে জন্মাষ্টমীর ছুটি এবং সরকারি কর্মীদের কাজের দিন নিয়েও আগের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের নীতিগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোক বা সরকারি দফতর শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি মানানোর ক্ষেত্রে কড়া অবস্থানই যে সরকারের, শুক্রবারের বার্তায় তা আরও স্পষ্ট।





