কলকাতা, ৪ সেপ্টেম্বরঃ হেলমেট পরিয়েছিল পুলিশ। উদ্দেশ্য ছিল, ভিড়ের মধ্যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না। শুক্রবার খড়দহ থানা থেকে বারাকপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে আর জি কর মামলায় ধৃত পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-কে লক্ষ্য করে ছোড়া হল একের পর এক ডিম। আদালত চত্বরের বাইরে তাঁকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগানও দেন বিজেপি কর্মীরা। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে ডিমের আঘাত থেকে রেহাই পাননি পুলিশ আধিকারিকেরাও।
আর জি কর-কাণ্ডে নতুন করে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরু থেকে সোমনাথকে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে রাজ্যে আনা হয়। তার পরেই শুরু হয় আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি। খড়দহ থানা থেকে বারাকপুর আদালতের পথে পুলিশি ঘেরাটোপে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাঁকে। কিন্তু আদালতের কাছাকাছি পৌঁছতেই উত্তেজনা ছড়ায়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ আগস্ট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আর জি কর-কাণ্ডে নির্যাতিতার দেহ দ্রুত দাহ করার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। অভিযোগ ওঠে, তড়িঘড়ি দাহের মাধ্যমে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়ে থাকতে পারে। সেই তদন্তের পরিধিতে আসে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথের নাম। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানায় নতুন মামলা হয়।
এই মামলায় নির্মল ও সঞ্জীবকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তাঁরা জামিন পান। তবে অন্য একটি মামলায় নির্মল এখনও জেলবন্দি। আর সোমনাথ ছিলেন এত দিন অধরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন অভিযোগের পর বার বার ঠিকানা ও ফোন নম্বর বদলাচ্ছিলেন সোমনাথ। শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরুর একটি জায়গা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। সূত্রের খবর, ঘটনার দিন শ্মশানের রিকুইজিশনেও তাঁর নাম ছিল। আর জি কর-কাণ্ডে তাঁর ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এখন প্রশ্ন একটাই নির্যাতিতার দেহ দ্রুত দাহের ঘটনায় সোমনাথের ভূমিকা ঠিক কতটা? সেই উত্তর খুঁজতেই শুরু হয়েছে নতুন তদন্ত।





