মহিষাদল, ৪ সেপ্টেম্বরঃ মাঠে তখন ফুটবল অনুশীলন চলছিল। আচমকাই বল গড়িয়ে গিয়ে পড়ে রাজ গ্রাউন্ডের পাশের ঝিলে। সেই বলটিই কুড়োতে জলে নামা। আর তার পরেই সব শেষ। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে ঝিলে তলিয়ে মৃত্যু হল নবম শ্রেণির ছাত্র রোহন মাইতির (১৫)। রাতভর তল্লাশির পর শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ উদ্ধার হয় তাঁর দেহ।
চণ্ডীপুর এলাকার বাসিন্দা রোহন পরিবারের একমাত্র সন্তান। বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে মহিষাদল রাজ গ্রাউন্ডে ফুটবল অনুশীলন করছিল সে। খেলতে খেলতেই বলটি ঝিলে গিয়ে পড়ে। বল কুড়োতে জলে নামার পর আচমকাই তলিয়ে যায় রোহন।
বন্ধুরা সেই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়দের খবর দেয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঝিলের ধারে ভিড় জমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে জাল ফেলে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ খোঁজ করেও রোহনের সন্ধান মেলেনি।
এর পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স। ডুবুরি এবং স্পিডবোট নামিয়ে ঝিলের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়। অন্ধকার নেমে এলেও থামেনি চেষ্টা। রাতভর চলে অভিযান। অবশেষে শুক্রবার সকালে উদ্ধার হয় রোহনের দেহ।
তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নামে এলাকায়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যেরা।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিডিও তাপস মণ্ডল, হলদিয়ার এসডিপিও, মহিষাদল থানার ওসি-সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা এবং পীযূষ কান্তি দাসও ঘটনাস্থলে যান।
রোহনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের মাধ্যমে সেই বার্তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।





