কলকাতা, ২৮ মেঃ কলকাতা পুলিশ-এর কর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল পুলিশ কমিশনারের দফতর। এবার থেকে তল্লাশি অভিযান, গ্রেফতারি বা অন্য সরকারি কাজে সাধারণ বা সাদা পোশাকে যাওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের সময় পুলিশকর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে উর্দি পরে থাকতে হবে। সম্প্রতি জারি হওয়া এই নির্দেশিকাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
পুলিশ কমিশনারের দফতরের তরফে গত ২৪ মে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও তল্লাশি অভিযান, কাউকে গ্রেফতার করা বা সরকারি কাজে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের পরিচয় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়া জরুরি। সেই কারণেই উর্দি পরে দায়িত্ব পালনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে নির্দেশিকায় এটাও বলা হয়েছে, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সাধারণ পোশাকে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীকে আগে থেকেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি অভিযানের সময় যাতে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়, সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
যদিও এই নির্দেশ সব বিভাগের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। কলকাতা পুলিশের বিশেষ শাখা, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট, স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স, সাইবার ইউনিট বা অন্যান্য বিশেষ তদন্তকারী শাখার কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। কারণ তদন্ত ও গোপন অভিযানের স্বার্থে এই ইউনিটগুলির অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ পোশাকে কাজ করার প্রয়োজন পড়ে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনায় অভিযোগ উঠেছিল, সাধারণ পোশাকে গিয়ে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কোথাও কোথাও ভুয়ো পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার ঘটনাও সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।
নির্দেশিকায় সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিকে বসু বনাম পশ্চিমবঙ্গ মামলা-র প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। ১৯৯৭ সালের ওই ঐতিহাসিক মামলায় শীর্ষ আদালত গ্রেফতার ও তল্লাশি অভিযানের ক্ষেত্রে পুলিশের আচরণবিধি স্পষ্ট করে দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, কাউকে গ্রেফতার বা আটক করার সময় পুলিশের পরিচয়, দায়িত্ব ও আইনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে বজায় রাখতে হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা পুলিশের এই নতুন নির্দেশিকা সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে যেমন পুলিশের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি কমবে, তেমনই অভিযানের সময় জবাবদিহিতাও বাড়বে।
অন্যদিকে, পুলিশ মহলের একাংশ মনে করছে, এই নির্দেশের ফলে সাধারণ মানুষ পুলিশের উপর আরও বেশি আস্থা রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে আইন মেনে স্বচ্ছভাবে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।





