কলকাতা, ৯ জুলাইঃ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে কালীঘাট তৃণমূলকে অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। তাঁর তত্ত্বাবধানেই আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তোলা ও ব্যবহার করতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল। তবে প্রতিটি লেনদেনে স্পেশাল অফিসারের কাউন্টার সই বাধ্যতামূলক এবং দৈনিক খরচের পূর্ণ হিসাব আদালতে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগে থেকে অনুমোদিত দু’জন স্বাক্ষরকারীই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন। তবে তাঁদের প্রত্যেকটি চেকে বা আর্থিক লেনদেনে স্পেশাল অফিসার সুব্রত তালুকদারের অনুমোদন থাকতে হবে। আদালতের মতে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা।
শুনানিতে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী মনু সিংভি। তাঁর যুক্তি, শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা যায় না। এমন পদক্ষেপের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, যাঁরা পরে অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরাই আগে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। ফলে তাঁদের অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবির, অর্থাৎ ঋতব্রত তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী বিশ্বনাথ দাস আদালতে দাবি করেন, তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আসছেন। তাই অন্য কোনও পক্ষকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। অ্যাকাউন্টের অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
তবে শুনানির সময় বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় এই একই অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল। তখন কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। ফল ঘোষণার পরে কেন অভিযোগ উঠল, ৪ মে বা ১৮ জুনের আগে কেন এই প্রশ্ন তোলা হয়নি এই নিয়েই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে আদালত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে শর্তসাপেক্ষে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্পেশাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে আর্থিক লেনদেন চলবে বলেই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।





